পোস্টগুলি

বাংলা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কবিতা : জ্যান্ত লাশ

দু পক্ষের দু- টো লাশকে একটা ভ্যানরিক্সায় ধরাধরি করে তুলতেই লাশদুটো হো হো করে হেসে  উঠলো। প্রথম লাশ দ্বিতীয় লাশকে বললো ' আরে তুই ?' দ্বিতীয় লাশের উত্তর ' কি মূর্খ আমি আসল বন্ধুকেই জীবদ্দশায় চিনতে পারলাম না।ঐ যে বলে না শেষযাত্রায় যে সাথে থাকে সেই তো আসল বন্ধু।' প্রথমজনের আফশোষ ' অথচ দেখ সারাজীবন আমরা কথা বললাম না।এমন কি মুখ দেখাদেখিও না ,একে অপরকে শত্রু বলেই জানলাম।' দ্বিতীয়জন দুঃখ করে বললো " যখন আমাকে ঝোপ থেকে চ্যাংদোলা করে তুলে আনছিল পথে তোর বউকে দেখলাম।দুধের শিশু কোলে নিয়ে মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে আর দু -চোখ জলে ভাসছে -----' প্রথমজন ক্ষোভের সাথে বললো ' আমি কি দেখলাম জানিস।যাদের জন্য লড়তে এসেছিলাম দু-জনে দু- পক্ষ হয়ে তারা বাগান বাড়িতে বসে মদ-মাংস ও মেয়ে মানুষে ডুবছে ------' লাশ হয়ে যা বুঝেছে জ্যান্ত লাশ থাকার সময় বুঝতে না পারার জন্য আফশোষ করতে করতে ভ্যানরিক্সায় হেলতে দুলতে হেলতে দুলতে চললো লাশঘরের দিকে। --------  ----------  কবি : ডঃ গৌতম কুমার মল্লিক কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল দুর্গাপুর থেকে প্রকাশিত ' অন্ধকারের কারুশিল্প ' পত্রিকায়।

কবিতা : দুটো মানুষ

একটা  মানুষ  স্বপ্ন  দেখে একটা  মানুষ  ভাঙে একটা  মানুষ  এগিয়ে  চলে আর  একটা  পিছুটানে। একটা  মানুষ  উদাস  বাউল একটা  হিসেব  কষে একটা  থাকে  মনের  সুখে আর  একটার  শূন্য হিসেব শেষে। একটা  মানুষ  মিলেমিশে একটা  স্বার্থপর একটা  মানুষ  মনের  মাঝে আর  একটা  হয়  পর। একটা  মানুষ  কথা  বলে একটা  মানুষ  গোমড়া একটা  হাসির ফুলঝুরি ভাই আর একটা হোমড়া চোমড়া। -------// কবি : ডঃ গৌতম কুমার মল্লিক

রম্য রচনা : এক আস্ত ভূতের সাক্ষাৎকার

ছবি
এক আস্ত ভূতের সাক্ষাৎকার রচনা : ডঃ গৌতম কুমার মল্লিক যুগ যুগ ধরে ভূতের কথা শুনে আসছি। কেউ কেউ বলেন ভূত আছে। কারো কারো মতে ভূত নেই। এ নিয়ে প্রচুর তর্কবিতর্ক আগেও হয়েছে এখনো হয় আবার ভবিষ্যতেও হতে থাকবে। তবে আমাদের মুখ দেখে রক্তে ভূতের গন্ধের উপস্থিতি সহজেই অনুমান করা যায়। ভাগ্যক্রমে আমি একবার ভূতের দেখা, থুড়ি থুড়ি উপস্থিতি অনুভব করেছিলাম। কালবিলম্ব না করে একটি সাক্ষাৎকারও নিয়ে ফেলি। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি ভূত আমাকে বিমুখ করে নি। আমার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সহজ সাবলীল ভাষায় দেয়। আমি হুবহু সেই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরছি। আমার নতুন লেখা বই “খাই খাই” google books এ  প্রশ্ন : ভূত যে আছে তার প্রমাণ কি?  উত্তর : শাস্ত্র মতে নিত্যপূজা বিধিতে ভূতশুদ্ধির কথা আছে। ভূতাদয় পূজায় গৃহীত মন্ত্র। এর পরেও কি বলবেন ভূত নেই।  প্রশ্ন : আপনি যে ভূত তার প্রমাণ কি?  উত্তর : আপনার মত এক আস্ত ভূতকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছি, তাই।  প্রশ্ন : ঠিক এই মুহূর্তে আপনি কি করছেন?  উত্তর : দেখতেই তো পাচ্ছেন, শ্যাওড়া গাছের ডালে ঝুলছি।  প্রশ্ন : আপনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ কিসে পান?...

রম্য রচনা : শ্রাবণ মাস কেমন যাবে

ছবি
শ্রাবণ মাস কেমন যাবে রচনা:  ডঃ  গৌতম কুমার মল্লিক আমার নতুন লেখা বই google books এ মেষ: কর্মক্ষেত্রে নতুন যোগাযোগ।  ধান্দাবাজির চরম শিখরে, আরোহন করুন। হাত মুষ্টিবদ্ধ করুন। দেখবেন কোন সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়। বুড়োবাবার হাড়সর্বস্ব দেহে ঠেঙালে যদি পয়সা না পড়ে তবে কোনো সুন্দরী যুবতীর নাদুস নুদুস বাবাকে টোপ দিন। গোঁফে তেল দিয়ে ঘুমোনোর সময় এটা নয়। তাই বলে যত্রতত্র তৈলাক্ত করিবেন না। প্রপার জায়গায় তৈলমর্দন করুন এবং ল্যাজ নাড়তে থাকুন। আরও পড়ুন বৃষ: দেহকষ্ট অবসাদ ভুল বোঝাবুঝি। অযথা কাজ করার কোনো ঝুঁকি নেবেন না। দেহকষ্ট লাঘব করতে বিছানায় শুয়ে জেগে ঘুমানোর অনাবিল আনন্দ উপভোগ করুন। বুকের জ্বালা  বুকেই চেপে রাখুন। লক্ষ্য রাখবেন যেন অন্য কেউ জানতে না পারেন। পাড়ার ছেলেরা বক্স বাজিয়ে নাচানাচি করলে বারান্দা অথবা ব্যালকনিতে এসে দেখুন এবং মুখে  ‘আহা’ ‘আহা’ করুন। বৃষ্টিমুখী কালো মেঘের দিকে তাকিয়ে মেঘে ঢাকা তারার মতো নিজের সুখস্মৃতির  জাবর কাটতে থাকুন। মেয়ে দেখলেই নানা ছলছুতোয় গায়ে পড়ে উপকার করার আপনার  সু-অভ্যাসটিকে আপাতত এ মাসটা দমিয়ে রাখুন। অন্যথায় ...

রম্য রচনা : এক ব্যস্ত মানুষের সাক্ষাৎকার

ছবি
  এক ব্যস্ত মানুষের সাক্ষাৎকার রচনা :  ডঃ  গৌতম কুমার মল্লিক  প্রত্যেক শহরেই দেখবেন এমন কিছু মানুষ পাওয়া যায় সব ব্যাপারে যাদের ব্যস্ততা নজর কাড়ে। এরা নামে পরিচিত তা নয়। পরিচিতি হাবেভাবে ব্যস্ততায়। ধান্দাবাজ, সুযোগ সন্ধানী। প্রচুর উপাধি এরা আড়ালে আবডালে আলোচনায় পেয়ে থাকেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল এরকম-ই একজনের সাথে একান্ত আলাপচারিতার। আমাদের কথোপকথন হুবহু তুলে ধরলাম।  প্রশ্ন :  আপনার নাম?  উত্তর :  বিরক্তি কর।  প্রশ্ন : আপনি কোথায় থাকেন?  উত্তর : জানেন না বুঝি? আমি তালে থাকি। মাতালেও থাকি। প্রশ্ন : আপনার ব্যস্ততার কারণ কি? উত্তর : মোটে-ই ব্যস্ত নই, আমি শশব্যস্ত। প্রশ্ন : আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? উত্তর : ওহ! ডিগ্রীর কথা বলছেন? তা থার্ড ডিগ্রি পর্যন্ত অভিজ্ঞতা আছে। প্রশ্ন : এই ব্যস্ত ভাব দেখিয়ে আপনি কি করেন? উত্তর : আখের গোছাই। প্রশ্ন : আপনার কাছে সবচেয়ে বড় জিনিস কি? উত্তর : স্বার্থ। প্রশ্ন : আপনি কি করেন? উত্তর : যাই করি না কেন, তড়িঘড়ি করি। প্রশ্ন : না, না, আমি বলছিলাম আপনি কি কাজ করেন? উত্তর : মুখে যা বলি ঠিক তার উল্টোটা। প্রশ...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রম্য রচনা : এক ব্যস্ত মানুষের সাক্ষাৎকার

কবিতা : আজকের দিন

কবিতা : বুদ্ধবাবু