কবিতা : জ্যান্ত লাশ

দু পক্ষের দু- টো লাশকে একটা ভ্যানরিক্সায় ধরাধরি করে তুলতেই লাশদুটো হো হো করে হেসে  উঠলো। প্রথম লাশ দ্বিতীয় লাশকে বললো ' আরে তুই ?' দ্বিতীয় লাশের উত্তর ' কি মূর্খ আমি আসল বন্ধুকেই জীবদ্দশায় চিনতে পারলাম না।ঐ যে বলে না শেষযাত্রায় যে সাথে থাকে সেই তো আসল বন্ধু।' প্রথমজনের আফশোষ ' অথচ দেখ সারাজীবন আমরা কথা বললাম না।এমন কি মুখ দেখাদেখিও না ,একে অপরকে শত্রু বলেই জানলাম।' দ্বিতীয়জন দুঃখ করে বললো " যখন আমাকে ঝোপ থেকে চ্যাংদোলা করে তুলে আনছিল পথে তোর বউকে দেখলাম।দুধের শিশু কোলে নিয়ে মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে আর দু -চোখ জলে ভাসছে -----' প্রথমজন ক্ষোভের সাথে বললো ' আমি কি দেখলাম জানিস।যাদের জন্য লড়তে এসেছিলাম দু-জনে দু- পক্ষ হয়ে তারা বাগান বাড়িতে বসে মদ-মাংস ও মেয়ে মানুষে ডুবছে ------' লাশ হয়ে যা বুঝেছে জ্যান্ত লাশ থাকার সময় বুঝতে না পারার জন্য আফশোষ করতে করতে ভ্যানরিক্সায় হেলতে দুলতে হেলতে দুলতে চললো লাশঘরের দিকে। --------  ----------  কবি : ডঃ গৌতম কুমার মল্লিক কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল দুর্গাপুর থেকে প্রকাশিত ' অন্ধকারের কারুশিল্প ' পত্রিকায়।

কবিতা : বেশ তো আছি






যেমন   নাচাও   তেমনি   নাচি
হাসি   না   পেলেও   আমি   হাসি।
বেশ  তো  আছি  বেশ  তো  আছি
আসলে  আমি  মিষ্ট ভাষী।


সাথেও  থাকি  পাঁচেও  থাকি
রক্তে   থাকে  ধান্দা  ভাসি।
বেশ  তো  আছি  বেশ  তো আছি
মাতালে  আছি  মদেও  আছি।


ছয়  ও  নয়ে   ভাগ্য   মাখি
নয় ছয়ে   চাখতে  থাকি।
যন্ত্রী  করে  তোমায়   আমি
যন্ত্র  হয়ে  সুখেই   থাকি।


গদগদ  মুখের  ভাষা
বুকের   মাঝে  অগাধ   আশা।
আশার   চাদরে   শরীর   ঢাকা
আসলে   আমার  পাঁকেই  থাকা।


দিয়েছি  টিকি  তোমার  হাতে
তাইতো   আছি  দুধে  ভাতে।
ড্রিমলাইটে  ডিস্কো নাচে
উঠতি  ছুড়ি  মধ্য রাতে।


---------------
কবি : ডঃ গৌতম  কুমার  মল্লিক



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা : জ্যান্ত লাশ

কবিতা : নতুন বছর

রম্য রচনা : এক ব্যস্ত মানুষের সাক্ষাৎকার