কবিতা : জ্যান্ত লাশ

দু পক্ষের দু- টো লাশকে একটা ভ্যানরিক্সায় ধরাধরি করে তুলতেই লাশদুটো হো হো করে হেসে  উঠলো। প্রথম লাশ দ্বিতীয় লাশকে বললো ' আরে তুই ?' দ্বিতীয় লাশের উত্তর ' কি মূর্খ আমি আসল বন্ধুকেই জীবদ্দশায় চিনতে পারলাম না।ঐ যে বলে না শেষযাত্রায় যে সাথে থাকে সেই তো আসল বন্ধু।' প্রথমজনের আফশোষ ' অথচ দেখ সারাজীবন আমরা কথা বললাম না।এমন কি মুখ দেখাদেখিও না ,একে অপরকে শত্রু বলেই জানলাম।' দ্বিতীয়জন দুঃখ করে বললো " যখন আমাকে ঝোপ থেকে চ্যাংদোলা করে তুলে আনছিল পথে তোর বউকে দেখলাম।দুধের শিশু কোলে নিয়ে মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে আর দু -চোখ জলে ভাসছে -----' প্রথমজন ক্ষোভের সাথে বললো ' আমি কি দেখলাম জানিস।যাদের জন্য লড়তে এসেছিলাম দু-জনে দু- পক্ষ হয়ে তারা বাগান বাড়িতে বসে মদ-মাংস ও মেয়ে মানুষে ডুবছে ------' লাশ হয়ে যা বুঝেছে জ্যান্ত লাশ থাকার সময় বুঝতে না পারার জন্য আফশোষ করতে করতে ভ্যানরিক্সায় হেলতে দুলতে হেলতে দুলতে চললো লাশঘরের দিকে। --------  ----------  কবি : ডঃ গৌতম কুমার মল্লিক কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল দুর্গাপুর থেকে প্রকাশিত ' অন্ধকারের কারুশিল্প ' পত্রিকায়।

কবিতা : মান্তূদা

( গড়বেতার প্রবাদপ্রতিম নাট্য ব্যক্তিত্ব  অনিরুদ্ধ  সরকার স্মরণে  রচিত)




দিল্লী থেকে মৃণালকান্তি বিশ্বাসের একটি ফেসবুক পোস্ট।
সাথে সাথেই ঝড়ের গতিতে খবরটি পৌঁছে গেল গড়বেতার সংস্কৃতিমনস্ক প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে।
পোস্টটি প্রথম দেখেই সবাই মনে মনে ভাবলো--
'ঠিক পড়ছি তো ! কোনো কিছু ভুল দেখলাম না তো !
আবারও পড়লো! মন বললো এও কি সম্ভব! এই তো সেদিন দেখা হল কণ্ঠস্বরের নাট্য উৎসবে।হাসিমুখে কত কথা হল।কত গল্প হল।কত আলোচনা হল।
অসম্ভব ! এ হতে পারে না !মন কিছুতেই যেন বিশ্বাস 
করতে পারছে না ! ফেক নিউজ নয় তো........'


আশেপাশে  বসে থাকা পরিচিতদের মধ্যে কানাঘুষো হল।তারপর -ই  উঠলো ঝড়।রিং টোনের ঝড়।আস্তে আস্তে থেমে গেল রিং টোনের  ঝড় ও।বাতাস স্তব্ধ হল। মন মানুক বা না মানুক এটাই সত্য হয়ে গেল গড়বেতার প্রবাদপ্রতিম নাট্যব্যক্তিত্ব ,গড়বেতা কন্ঠস্বর
সাংস্কৃতিক সংস্থার প্রাণপুরুষ অনিরুদ্ধ সরকার
আমাদের সবার প্রিয় ' মান্তূদা' আর আমাদের মধ্যে নেই। ভূমিকম্প হল গড়বেতার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মনে।
ক্লাবে ক্লাবে, পাড়ায় পাড়ায়, অলিতে গলিতে, স্টেডিয়ামে 
চা  দোকানের আলোচনা মান্তূময় হয়ে উঠলো।    
শ্রদ্ধা ভালোবাসা সমবেদনার বন্যায়  ভিজলো ফেসবুক।

আজ খুব জানতে ইচ্ছে করছে মান্তূদা না  ফেরার দেশে যাওয়ার কি খুব-ই তাড়া ছিল? তুমি কি শুনতে 
পাচ্ছ গড়বেতার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের হৃদয়ের আর্তনাদ? তুমি কি দেখতে পাচ্ছ তিলকদার চোখে আজ জল। চঞ্চলদা ভাষাহীন।সুচাঁদদার কণ্ঠে নেই গান।আজও সবাই বসেছে কন্ঠস্বরে, হ্যাঁ তোমার সাধের কন্ঠস্বরে। স্বপনদা, বরুণদা, অসীমদা, লালুদা, তাপস,সমর, কল্যাণ, সিধু সহ সবাই বোবামুখে ফ্যাকাশে চোখে----- এ এক অদ্ভুত নীরবতা।
তুমি কি দেখতে পাচ্ছ মান্তূদা ?

শুনেছিলাম গড়বেতাকে ভালোবেসে, গড়বেতার 
নাট্যামোদী মানুষের পাশে থেকে শেষজীবন কাটাতে চেয়েছিলে গড়বেতাতেই।তোমার স্বপ্ন ছিল থাকবে একটি ছোট্ট ঘরে।চারিপাশে থাকবে সবুজ ফসলে ভরা মাঠ।ফুলে ফলে ভরা বাগান।সব্জি ফলাবে নিজহাতে।
তোমার স্বপ্ন অধরা-ই রয়ে গেল ----
সবুজ মাঠ ........ সবুজ মাঠ....... সোনার ফসল ....
রঙিন ফুল ........রঙিন ফুল ......সুগন্ধি বাতাস .....
আর
নাটক ..... নাটক ..........নাটক......আর নাটক...

তুমি কোথায় ? আমরা জানি না।
তুমি কেমন আছো? তাও জানি না।
তবে পরম করুণাময় ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করি তুমি যেখানেই থেকো ভালো থেকো এবং নাটক নিয়েই থেকো।
গড়বেতাবাসী কোনদিন-ই তোমায় ভুলবে না।
তুমি থাকবে গড়বেতার নাট্যাকাশে ধ্রুবতারা হয়ে।




             ---/----///-----/

কবি : ডঃ গৌতম কুমার মল্লিক।
রচনা তারিখ :13.02.2024


মন্তব্যসমূহ

  1. মানতু দা আমাদের গড়বেতার গর্ব।

    উত্তরমুছুন
  2. ভালো মানুষদের যে সবারই খুব দরকার হয়। ভালো মানুষ-রা যে সংখ্যায় খুব কম। আমাদের অক্ষমতা যে আমরা ভালো মানুষদের ধরে রাখতে পারিনা

    উত্তরমুছুন
  3. খুব ভালো লাগলো পড়ে,তবে মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
    ভালো থাকুন,

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. হ্যাঁ, উনি আমাদের খুব কাছের মানুষ ছিলেন। ইচ্ছে হলে আপনি ও আবৃত্তি করে you tube এ দিতে পারেন।

      মুছুন
  4. ডঃ গৌতম কুমার মল্লিক১৯ মে, ২০২৪ এ ৯:৪০ PM

    ধন্যবাদ।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা : জ্যান্ত লাশ

কবিতা : নতুন বছর

রম্য রচনা : এক ব্যস্ত মানুষের সাক্ষাৎকার