কবিতা : জ্যান্ত লাশ

দু পক্ষের দু- টো লাশকে একটা ভ্যানরিক্সায় ধরাধরি করে তুলতেই লাশদুটো হো হো করে হেসে  উঠলো। প্রথম লাশ দ্বিতীয় লাশকে বললো ' আরে তুই ?' দ্বিতীয় লাশের উত্তর ' কি মূর্খ আমি আসল বন্ধুকেই জীবদ্দশায় চিনতে পারলাম না।ঐ যে বলে না শেষযাত্রায় যে সাথে থাকে সেই তো আসল বন্ধু।' প্রথমজনের আফশোষ ' অথচ দেখ সারাজীবন আমরা কথা বললাম না।এমন কি মুখ দেখাদেখিও না ,একে অপরকে শত্রু বলেই জানলাম।' দ্বিতীয়জন দুঃখ করে বললো " যখন আমাকে ঝোপ থেকে চ্যাংদোলা করে তুলে আনছিল পথে তোর বউকে দেখলাম।দুধের শিশু কোলে নিয়ে মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে আর দু -চোখ জলে ভাসছে -----' প্রথমজন ক্ষোভের সাথে বললো ' আমি কি দেখলাম জানিস।যাদের জন্য লড়তে এসেছিলাম দু-জনে দু- পক্ষ হয়ে তারা বাগান বাড়িতে বসে মদ-মাংস ও মেয়ে মানুষে ডুবছে ------' লাশ হয়ে যা বুঝেছে জ্যান্ত লাশ থাকার সময় বুঝতে না পারার জন্য আফশোষ করতে করতে ভ্যানরিক্সায় হেলতে দুলতে হেলতে দুলতে চললো লাশঘরের দিকে। --------  ----------  কবি : ডঃ গৌতম কুমার মল্লিক কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল দুর্গাপুর থেকে প্রকাশিত ' অন্ধকারের কারুশিল্প ' পত্রিকায়।

পত্রিকা সমালোচনা :শারদ অর্ঘ্য কন্ঠস্বর,১৪৩০





হাতে  পেলাম পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা থেকে প্রকাশিত কন্ঠস্বর সাংস্কৃতিক সংস্থার শারদ 
অর্ঘ্য' 'কন্ঠস্বর'।পত্রিকা সম্পাদক :চঞ্চল সিনহা।প্রকাশক :তিলক কুন্ডু ।অলংকরনে :প্রিয়রঞ্জন দত্ত।
পত্রিকাটিতে আছে দশ-দশটি কবিতা।কবিতা লিখেছেন রামকৃষ্ণ মহাপাত্র, প্রশান্ত চাকু, কাশীনাথ সাহা,দীনবন্ধু কর্মকার, তাপস কুমার দাস ও কান্তিময় বন্দ্যোপাধ্যায়।আছে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় এর ছোটো গল্প 'শিক্ষক' এবং চঞ্চল সিনহার নিবন্ধ 'মৌলবাদ বিরোধী রবীন্দ্রনাথ'।
সম্পাদকীয়তে সম্পাদক মহাশয় আমাদের ভেবে দেখতে  বলেছেন আমরা ' মনুষ্যপদবাচ্য' কি না!
কণ্ঠস্বরের শারদীয় পত্রিকার একটা সুনাম আগেও ছিল এখনও আছে।




সমালোচনায় আমি  গৌতম কুমার মল্লিক।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কবিতা : জ্যান্ত লাশ

কবিতা : নতুন বছর

রম্য রচনা : এক ব্যস্ত মানুষের সাক্ষাৎকার